Posts

এখান থেকেই শুরু

Image
  আপনি! যে মুসলিম ভাই এই লেখাটা পড়ছেন আপনি জানেন না আপনি কত ভাগ্যবান। আল্লাহ আপনাকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” এর অনুসারী বানিয়েছেন। শুধু শুধুমাত্র দয়া করে। যে মানুষটি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে পারে, যে মানুষটি প্রতিটা মুহূর্তে মহান আল্লাহকে স্মরণ করতে পারে, বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে পারে, সে মানুষটি কি জানে সে কত ভাগ্যবান? আল্লাহ কত কত দুর্ভাগা মানুষের মাঝখান থেকে এই মানুষটিকে আল্লাহ্‌র কৃতজ্ঞ বান্দাদের সাথে শামিল করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ্‌। আপনি যে ভাগ্যবান এটা বুঝতে পারাটাও একটা রহমত। সেই রহমতের জন্যও আপনার বলা উচিত আলহামদুলিল্লাহ। আমরা তিনবেলা ভালো খেতে না পেরে আক্ষেপ করি আর রাসুল (সাঃ) সহ তাঁর সাহাবীরা পেটে পাথর বেঁধে থাকতেন। আপনার খুব দামি ব্র্যান্ডের জুতা নেই কিন্তু আপনার জুতা পরার দুইটা পা আছে, কারো হয়ত সেটাও নেই। আপনার খুব ভালো, দামি কাপড় নেই কিন্তু স্মরণ করুন আবু যার গিফারির (রাঃ) এর মত সাহাবী, হজরত হামযা (রাঃ) এর মত বীর শহীদ দের কবরস্থ করার সময় এক টুকরো কাফনের কাপড়ও ছিল না! আপনার হয়ত খুব সুন্দর একটা ফ্ল্যাট বাড়ি নেই কিন্তু হজরত আলী (রা) এর মত মানুষও মাঝে মাঝে ...

খুজিয়া বেড়াই

Image
সেদিন হঠাৎ করেই আবিষ্কার করলাম—আমি আমার এই জীবনে তিনটা দশক দেখে ফেলেছি—৮০, ৯০ এবং ২০০০। প্রায় তিনটা ভিন্ন ভিন্ন দশক, ভিন্ন ভিন্ন সময়। যতই মনে মনে নিজেকে ৯০ দশকের সেই অস্থির কিশোরটা হিসেবে কল্পনা করি না কেন আর মাত্র অল্প ক’টা দিন পরেই একজন মধ্যবয়স্ক মানুষ হিসেবে সবাই আমাকে কৃত্রিম/অকৃত্রিম সম্মান প্রদর্শন করবে। নামের শেষে যুক্ত হবে ভদ্দরনকি—‘সাহেব’ খেতাব। জীবনের এতগুলো বছর কীভাবে চলে গেল সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। তবে বাকিটা সময়ও যে এভাবেই জাস্ট ফুড়ুৎ করে উড়ে চলে যাবে সে ব্যাপারে নিশ্চিত। আমি নিজেকে নাম দিয়েছিলাম "মৈনিক কিশোর"। মনে মনে কিশোর যে সেই— মৈনিক কিশোর! আমার ভেতরের দুরন্ত কিশোরটাকে কী প্রাণপণ প্রচেষ্টায় এখনও প্রতিদিন সকালে অফিসের চেয়ারটাতে বেঁধে রাখতে হয় সে খবর আমি ছাড়া পৃথিবীর ৭ বিলিয়ন মানুষের কারও কাছেই নেই। কী ভয়ংকর সাধ জাগে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের মতো করে এখনও হঠাৎই সবকিছু ছেঁড়েছুড়ে অজানা এক লঞ্চের ডেকে চড়ে বসতে। কোথায় যাচ্ছি, কেন যাচ্ছি কিসসু জানি না! স্রেফ যাওয়ার জন্যই যাওয়া। বড় হচ্ছি, বুড়ো হচ্ছি। মেয়েটা ঘুম ভেঙে কেঁদে উঠে তার অস্তিত্বের জানান দেয়। আর আমার দ...

আইয়ামে বীজের রোজার ফজিলত ও গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা‼️

Image
আইয়ামে বীজের রোজার ফজিলত ও গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা‼️ রমজানের ফরজ রোজা ছাড়াও সারা বছর অনেকগুলো নফল রোজা রয়েছে। তারমধ্যে অন্যতম ফজিলতপূর্ণ নফল রোজা হচ্ছে আইয়ামে বীজের রোজা। প্রতি মাসে ৩ দিন আইয়ামে বীজের রোজা রাখলে তাতে পুরো মাস রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যাবে। রাসূল ﷺ সারা বছর এই রোজা রাখতেন। এর থেকে আইয়ামে বীজের ফজিলত সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।  প্রতি হিজরি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ কে আইয়ামে বীজ বলা হয়। কেননা এই তিনদিনের রাতের চাঁদ সবচেয়ে বেশি আলোকজ্জল বা শ্বেত-শুভ্র থাকে। আইয়ামে বীজ বলতে বুঝানো হয় চন্দ্র মাসের সবচেয়ে শুভ্র বা আলোকজ্জল তিনটি রাতের সাথে সংশ্লিষ্ট দিনকে।  ➤ আইয়ামে বীজের রোজার বিধান  আইয়ামে বীজের রোজা ফরজ নয়। এটি নফল রোজা। অর্থাৎ আইয়ামে বীজের রোজা রাখলে সওয়াব আছে, কিন্তু না রাখলে গুনাহ নাই। ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি আমাদের উচিত নফল ইবাদতেও মনযোগ দেয়া। কারণ ফরজ পালন করতে গিয়ে কোনো ত্রুটি বিচ্যুতি হলে বা কোনো ফরজ অনিচ্ছাকৃত ভাবে ছুটে গেলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের নফল আমলগুলোর মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করে দিতে পারেন। তাই বছরের বিভিন্ন সময়ে যে সকল নফল রোজা রয়েছে সেগুলো আদায়...

শেষ কবে আমরা আমাদের প্রিয় নবীজীর জন্য কেঁদেছি?

Image
সীরাতে ইবনে হিশাম' পড়ে কেঁদেছিলাম। আংটি পড়ে যাওয়ার অজুহাতে একজন সাহাবী রাসুল ﷺ এর কবরে দ্বিতীয়বার নেমেছিলেন। সর্বশেষ বিদায় নিয়েছিলেন তাঁর কাছ থেকে। এই ঘটনা পড়ে কেঁদেছিলাম। . একদিন মা আয়েশা (রাঃ) রাসূল ﷺ এর সাথে ছিলেন। রাসূল ﷺ কে বেশ উৎফুল্ল দেখে হযরত আয়েশা (রাঃ) বললেন, 'ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।'  রাসূল ﷺ আয়েশা রা.-এর জন্য দোয়া করলেন। "হে আল্লাহ! আয়েশাকে মাফ করে দাও। তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দাও, তার আগামীর গুনাহ মাফ করে দাও, তার গোপনে করা গুনাহ মাফ করে দাও, তার প্রকাশ্যে করা গুনাহও মাফ করে দাও।"  রাসূল ﷺ এর দোয়া শুনে হযরত আয়েশা (রাঃ) হাসলেন। রাসূল ﷺ আয়েশাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আমার এই দোয়া কি তোমাকে আনন্দিত করেছে?'  হযরত আয়েশা রা. বললেন, 'কি করে এমন দোয়া কাউকে সন্তুষ্ট করতে না পারে!' আমাদের প্রিয় নবী হযরত আয়েশা রা.কে বললেন, 'আল্লাহর কসম! আমি আমার উম্মতের জন্য আমার প্রতিটি নামাজে এই একই দোয়া করি।'  যে দোয়া রাসূল ﷺ উনার প্রিয়তম স্ত্রীর জন্য করেছেন, সেই একই দোয়া প্রতি নামাজে তিনি তাঁর উম্মতের জন...

কেমন ছিলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের শেষ ২৪ ঘণ্টা?

Image
রবিউল আউয়াল আনুমানিক দুপুর ১২টায় কয়েকদিনের অসুস্থতার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছুটা সুস্থ অনুভব করেন।  যুহরের নামাজের পর, অর্থাৎ আনুমানিক দুপুর ১.৩০ এ তিনি তাঁর দুই চাচাতো ভাই আলী ও ফদল ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার কাঁধে ভর করে মসজিদে যান।  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মসজিদে আসতে দেখে সাহাবীরা খুশি হন। মসজিদে গিয়ে তিনি ঘোষণা করেন— যার ওপর আমার হক আছে, সে যেন এসে নিয়ে যায়।  তখন সাহাবী উকাশা ইবনে মিহসান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন বদর যুদ্ধের কিসাসের কথা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বদরের দিন তাঁকে মিসওয়াক দিয়ে সামান্য আঘাত করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুমতি দিলে উকাশা অদ্ভুত একটি কাজ করেন! তিনি ক্ষতিপূরণ হিশেবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পেটে চুমু দিলেন!  বিকেল ৩.৩০ অর্থাৎ আসরের পর থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবার অসুস্থতা শুরু হয়।  আস্তে আস্তে জ্বর বাড়তে থাকে। তিনি মাগরিবের নামাজে যেতে পারেননি। তাঁর অনুপস্থিতিতে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু মা...

একটি কুমরো ফুলের ঘর

Image
নাড়ার আগুনে খই ফোটাচ্ছে ছেলেমেয়েরা। সরু আইল ধরে হেঁটে যাচ্ছে অচেনা কোন হাটুরে। কাবাডি খেলার হৈ-হুল্লোড়ে বিল মাতিয়ে রাখছে দুরন্ত কিশোরগুলো। আমরা বসে বসে দেখি। পেয়ারা গাছের নিচে মোড়া নিয়ে বসে আছি আমরা তিনজন। আমি, ছোটফুফু আর ছোট বোন রুবাইয়া। ইটের উপর বড়ই বিচি রেখে আরেকটা ইট দিয়ে ভেঙে লাল পাক্কন বের করার চেষ্টা করি আমি। ছোট ফুফু হাসতে হাসতে ফ্ল্যাশ ব্যাকে চলে যান.. [চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষাকে প্রমিত রূপ দিচ্ছি].. ‘সেদিনের সেই এতটুকুন বাচ্চাটা... কত বড় হয়ে গেলি বাপ!’ আমি হাসি। ফুফুর গা ঘেঁষে বসি। আমার চুলে বিলি কাটেন। কখনো ‘তুমি’ কখনো ‘তুই’ সম্বোধনের রকমফের উপভোগ করতে থাকি। ‘তোমাকে কোলে করে বড় করেছি আমি। সারাদিন মাথায় করে বাড়ির এ-মাথা থেকে ও-মাথা ঘুরে বেড়াতাম। তুমি কারণে বা অকারণে কাঁদলে বাবাজি আমাকে বকা দিতেন। তড়ে নরম তুলতুলে হাতের তালুতে আমার আঙুল ছোঁয়াতাম, মুঠোয় ধরে রাখতি যখন, কত ভালো লাগত আমার, জানিস?' আমি তন্ময় হয়ে শুনতে থাকি। দূরে কোথাও দাদুভাইয়ের সফেদ পাঞ্জাবি দেখা যায়। হাট থেকে ফিরছেন। দুই হাতে দুটো সওদাভর্তি থলে। মাগরিবের আযান হয়ে যায়। আমরা ঘরে ঢুকে পড়...

সুরা ইয়াসীন মনোমুগ্ধকর কন্ঠে,,,শুনুন,,,শেয়ার করুন,,,,ডাউনলোড করুন ইনশাআল্লাহ

Image
 

গাজিয়াতুল হিন্দ

Image
📌গাজওয়াতুল হিন্দ : একটি তাত্ত্বিক ও তথ্যবহুল আলোচনা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতিশ্রুত গাজওয়াতুল হিন্দ কি অতি সন্নিকটে? আজ আমরা গাজওয়াতুল হিন্দ বা হিন্দুস্তানের মহাযু*দ্ধ নিয়ে কিছুটা আলোকপাত করব ইনশাআল্লাহ। এটা এমনই এক মর্যাদার্পূণ জি*হাদ, যে ব্যাপারে হাদিসে সুস্পষ্ট ফজিলত ও দিক-নির্দেশনা রয়েছে। গাজওয়াতুল হিন্দ বলতে ইমাম মাহদি এবং ইসা আ.-এর আগমনের কিছু আগে অথবা সমসাময়িক সময়ে এই পাক-ভারত-বাংলাদেশে মুসলিম ও কাফিরদের মধ্যকার সংগঠিত যু*দ্ধকে বুঝায়। ‘গাজওয়া’ অর্থ যু*দ্ধ, আর ‘হিন্দ’ বলতে এই উপমহাদেশ তথা পাক-ভারত-বাংলাদেশসহ শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানকে বুঝায়। আমরা প্রথমত এসংক্রান্ত কয়েকটি প্রামাণ্য হাদিস উল্লেখ করব। এরপর এর প্রেক্ষাপট, সময় ও অবস্থান র্নিণয় সম্পর্কে কিছু আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ। ১ নং হাদিস : حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى الزَّمِنُ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ بُسْرِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ، عَنْ صُرَيْمٍ السَّكُونِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَ...

কুদৃষ্টির ক্ষতি এবং পরিনাম

Image
✿✿ দৃষ্টি সংযত রাখা সম্পর্কিত হাদীসসমূহ ০১। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র ইরশাদ: غُضُّوا أَبْصَارَكُمْ وَاحْفَظُوا فُرُوجَكُمْ "তোমরা স্বীয় দৃষ্টি অবনত রাখো এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করো।" হাফেয ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ লেখেন, 'দৃষ্টি জৈবিক তাড়নার মুখপাত্র ও প্রতিনিধি হয়ে থাকে। দৃষ্টির হেফাজত প্রকৃতপক্ষে জৈবিক তাড়না ও লজ্জাস্থানেরই হেফাজত। যে স্বীয় দৃষ্টিকে স্বাধীন ছেড়ে দিল সে যেন নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিল। দৃষ্টি ওই সমস্ত বিপর্যয়ের মূল যাতে মানুষ পতিত হয়।' ০২। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: النَّظْرَةُ سَهُمْ مِنْ سِهَامٍ إِبْلِيسَ 'দৃষ্টি ইবলিসের তিরসমূহের মধ্যে একটি বিষাক্ত তির।' ০৩। কোনো কোনো সালাফ থেকে বর্ণিত আছে: النَّظَرُ سَهُمُ سُمِّ إِلَى الْقَلْبِ "দৃষ্টি এমন এক তির যা অন্তরে বিষ ঢেলে দেয়।" ০৪। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: الْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ 'দু-চোখের জিনা হচ্ছে দৃষ্টিপাত।' এ হাদীস থেকে বোঝা যায়, যে ব্যক্তি কোনো পরনারীর প্রতি কামাতুর দৃষ্টি দেয় সে ...