হেমন্ত এলেই শুধু অবসর পাওয়া যায় ৫



❝৫ম পর্ব❞

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোন মুসলমান যদি অন্য মুসলমান রোগীর সেবা শুশ্রষা বা খোঁজখবর নেওয়ার জন্য সকালে যায়, তাহলে সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাদিন তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা দোয়া করতে থাকে। আর যদি সন্ধ্যায় যায়, তাহলে সারারাত সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য দোয়া করতে থাকে। (তিরমিযী শরীফ, আবু দাউদ শরীফ)


বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন এতিমখানা বা বৃদ্ধাশ্রম থেকে । পর্ন/মাস্টারবেশন আসক্তি কাটানোর ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে এগুলোও ।


মাঝেমধ্যে কবরস্থানে যাওয়া নিশ্চিতভাবেই এমন অভিজ্ঞতা যা অহংকারকে নিঃশেষ করে দেয়,অন্তরে আল্লাহ্‌ভীতি জাগায়। যদি কিছুদিনের মধ্যে না গিয়ে থাকেন, তাহলে স্থায়ী বাসিন্দা হবার আগে একবার দর্শনার্থী হিসেবে ঘুরে আসুন।


কবরস্থানে গিয়ে আপনার প্রিয় মানুষদের কবরের পাশে দাঁড়ান। সেই সময়গুলোর কথা স্মরণ করুন যখন তারা ছিলেন সুস্থ-সবল। অবস্থান করছিলেন জীবিতদের মাঝেই। সেই কবরবাসীদের জায়গায় নিজেকে কল্পনা করুন। কল্পনা করুন আপনি কবরে শায়িত,কল্পনা করুন একবার , দুনিয়ায় থাকতে পর্ন মাস্টারবেশনে যে ক্ষনিকের মজা নিয়েছিলেন এখন তার প্রতিদান দেওয়া হচ্ছে, আপনার কবরে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে,আপনার পরিধানে জাহান্নাম থেকে আনা আগুনের পোশাক…


অবসরে ঘুরে আসুন গোরস্থান থেকে। আল্লাহর কাছে কবরবাসীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং তাদের উপর রহমত বর্ষণের আকুল আবেদন জানান। দুয়া করুন যেন আল্লাহ তাদের কবরসমূহকে প্রশস্ত করে দেন ও আলো দ্বারা উদ্ভাসিত করে দেন। আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানান যেন আপনি নিজে যখন তাদের মাঝে অবস্থান করবেন তখন আপনার উপরও রহম করা হয়।


এ দুনিয়ার জীবনে যারা সফল, যাদের যশ, খ্যাতি, অর্থবিত্ত, প্রভাব-প্রতিপত্তির কোনো অভাব নেই, আমরা অবেচেতন মনেই তাদের অনুসরণ, অনুকরণ করার চেষ্টা করি। হোক সে ক্লাসের সেরা ছাত্র বা জনপ্রিয় খেলোয়াড়, তুখোড় অভিনেতা বা শীর্ষ ধনীব্যক্তি। এরা কীভাবে অবসর কাটায়? ঘরের কোণায় বসে মুভি-সিরিয়াল দেখে, ইউটিউবে পড়ে থেকে, ফেইসবুকে একটার পর একটা স্ট্যাটাস দিয়ে?


জাগতিক জীবনে সফল ব্যক্তিরা অবসর কাটাতে বেরিয়ে পড়ে পৃথিবীর পথে, ছুটে বেড়ায় পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। কেউ সাগরে নৌকা ভাসায়, কেউ আকাশ থেকে প্যারাসুট নিয়ে লাফিয়ে পড়ে, কেউ পাহাড়ে চড়ে বেড়ায়, কেউ হাইকিং করে, সাঁতার কাটে, বই পড়ে, সাইক্লিং করে, পরিবার-আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটায়। অবসরে তারা নতুন নতুন জিনিস শেখে—কোনো নতুন ভাষা, কোনো নতুন প্রযুক্তি, রান্না বা অন্য কিছু। নেটওয়ার্ক বিল্ড আপ করে, চ্যারিটি ফান্ডের জন্য টাকা সংগ্রহ করে, কোনো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাশ্রম দেয়।


অবসর সময়কে শুধু নিছক “আনন্দ” আর “মজা” করার মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রোডাক্টিভ কিছু করার চেষ্টা করুন। সাঁতার, সাইক্লিং, বাইক চালানো শিখুন, রান্না করাটা শিখে নিন। মাইক্রোসফট অফিস খুব ভালোমতো শিখুন, ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং জানা খুব জরুরি; ধীরে ধীরে শিখে ফেলুন। টুকটাক প্রোগ্রামিং করা শিখুন, সুযোগ থাকলে ইলেক্ট্রনিক্স নিয়েও অল্পবিস্তর ঘাঁটাঘাঁটি করুন। মসজিদে স্বেচ্ছাশ্রম দিন, জনসেবামূলক কোনো প্রতিষ্ঠানে সময় দিতে পারেন (নারী-পুরুষের ফ্রি মিক্সিং হবার সম্ভাবনা থাকলে কোনো দরকার নেই)।


আল্লাহ্‌ (সুবঃ) বলেন, “...আর সফলকাম তারাই যাদের দোযখের আগুন থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। দুনিয়ার জীবনতো ছলনার বস্তু ছাড়া অন্য কিছুই নয়।” (সূরা আলে-ইমরান, ৩:১৮৫)


তাঁরাই প্রকৃত সফল ব্যক্তি (রাঃ) যারা এই ধুলোমলিন পৃথিবীতেই পেয়েছিলেন জান্নাতের সুসংবাদ। কেমন ছিল তাদের অবসর? কী কী করে তাঁরা কাটাতেন তাঁদের অবসর?


জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবীদের (রাঃ) অবসর কাটত আল্লাহ্‌র (সুবঃ) যিকিরে, কুরআন তিলাওয়াতে, ইলম অনুসন্ধান আর ইলম অনুযায়ী আমল করায়। তাঁরা (রাঃ) ঘোড়া চালাতেন, তীরন্দাজি করতেন, কুস্তি করতেন, ভারোত্তলন, হাই জাম্প, লং জাম্পের অনুশীলন করতেন। যুদ্ধবিদ্যা চর্চা করতেন। তাঁদের (রাঃ) মূল ফোকাস ছিল আল্লাহ্‌র (সুবঃ) যমিনে আল্লাহ্‌র (সুবঃ) দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা। তাঁদের (রাঃ) মতো হবার চেষ্টা করুন

Comments

Popular posts from this blog

নেশা যখন চটি গল্প পড়া

গাজিয়াতুল হিন্দ

হ্যামিলনের বাশিওয়ালা